sheikh hasina- uttaranews24

নিজের জীবনটাকে বাংলার জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের সেবার করার চেয়ে বড় কাজ আর কি হতে পারে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশনাল’র লায়ন লিও মহাসমাবেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশনাল-এর নব নির্বাচিত ‘আন্তর্জাতিক পরিচালক’ লায়ন কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের সেবা করাটা এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। মানুষের জন্য সেবা করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এর চেয়ে বড় কাজ আর কি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার জীবনটাকে উৎসর্গ করেছি বাংলার জনগণের জন্য। এখানে আমরা নিজের কোনো চাওয়া পাওয়া কিছু নেই। আর বাবা-মা, ভাই সবই হারিয়েছি হারাবারও কিছু নেই।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, শুধু একটা জিনিসই চাই, যে দেশকে আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, যে স্বপ্নটা তার ছিলো যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা মুক্ত দারিদ্র মুক্ত উন্নত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশকে সেভাবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।

সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে সকলের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সকলে এক সঙ্গে কাজ করে এই বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে সম্মান পাচ্ছে, স্বীকৃতি পাচ্ছে। আগে আমরা বাঙালিরা বিদেশে গেলে সবাই বলতো ও বাংলাদেশ ঘুর্ণঝড়, দুর্ভিক্ষ, ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন আর সে কথা কেউ বলে না। বিদেশে গেলে নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারেন। এখন বলে বাংলাদেশ তো উন্নয়নের রোল মডেল।

তিনি বলেন, এই সম্মানটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। আশা করি এই সম্মানটা আমরা যেন ধরে রাখতে পারি।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাজেট সাতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাজেট আগে করতে গেলে বিদেশিদের কাছে হাত পাততে হতো। আল্লার রহমতে এখন আর হাত পাততে হয় না। বাজেটের ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে আমরা করে থাকি। আগে আমাদের উন্নয়ন বাজেট যা হয়তো ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা ছিলো। এখন ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে সবার সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি এটাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। দেশের অগ্রযাত্রা, এই উন্নয়নের ধারাটা অব্যহত রাখতে হবে।

দেশের উন্নয়নে নেয়া পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশকে আমরা সর্বক্ষেত্রে উন্নত করতে চাই, স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। দেশের মানুষ যাতে আরো উন্নত জীবন পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের অগ্রগতি ধরে রাখতে লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশন্যালের সদস্যদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের লায়ন ও লিও সকলের একটা দায়িত্ব রয়েছে। আপনারা যেমন সমাজসেবামূলক কাজ করেন এই কাজের মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের দেশের অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখতে পারি। আমরা এক সাথে কাধেঁ কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো সেটাই আমাদের লক্ষ্য। দেশকে আমাদের উন্নত করতেই হবে।

লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল এর প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল জাতিসংঘের কনসালটেটিভ স্ট্যাটাস প্রাপ্ত, বিশ্বের সর্ববৃহৎ মানবসেবামূলক সংগঠন। সমাজের দুঃস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিবেদিত এই সংগঠন বিগত একশ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বের ২০০ টিরও অধিক দেশে মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি মাল্টিপল জেলার আওতায় ৬টি জেলার মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার লায়ন এবং ৫ হাজার লিও সদস্য দুঃস্থ মানবতার কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশেষ করে অন্ধত্ব দূরীকরণ, ডায়াবেটিস ও শিশু ক্যান্সার প্রতিরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং বিভিন্ন জনকল্যাণে লায়ন ও লিও সদস্যগণ দেশের দুঃস্থ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। তাই একটি আধুনিক সমাজ বির্নিমাণে লায়নদের কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের ওপর একটা বোঝা এসেছে, মিয়ানমারের শরণার্থী। প্রায় ১১ লাখ শরণার্থী আজকে আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয় নেয়া আমাদের শরণার্থীদের কথা যখন স্মরণ করেছি তখন তাদের আশ্রয় না দিয়ে পারিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার ছোট বোন রেহানা এখানে ছিলো– সে আমাকে বললো ১৬ কোটি মানুষকে ভাত খাওয়াও তুমি। আর এই যে নির্যাতিত মানুষগুলো, ৭১ এ আমাদের বাঙালিরা যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলাম এরাও ঠিক একই রকম নির্যাতনের শিকার। আজকে তাদেরকে তুমি খাওয়াতে পারবে না? আমি বললাম নিশ্চয়ই পারবো, প্রয়োজনে নিজেদের খাবার ভাগ করে খাবো।

রোহিঙ্গা সংকটে কুটনৈতিক সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে তাদেরকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের কুটনৈতিক সাফল্য এইটুকুই আমরা প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে ঝগড়া করিনি, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি সই করেছি। তারা রাজি হয়েছে নিয়ে যাবে, যদিও এখনো নিয়ে যাওয়া শুরু করেনি। তারপরও আমরা আলোচনা করে চাচ্ছি এদের ফিরিয়ে দিতে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ভাবে আজকে যে সমর্থন বাংলাদেশ পেয়েছে এবং সেই সঙ্গে (মিয়ানমারকে) চাপ প্রয়োগ করছেন। আমরা আশা করি তাদেরকে (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে দেয়ার কাজ শুরু করতে পারবো।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/টি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা