নিউ ওয়েলকেয়ার হাসপাতালে মাদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিউ ওয়েলকেয়ার হাসপাতালে মাদক সেবন, ভুয়া চিকিৎসক ও ভুয়া বিল তৈরিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১২ জনকে আটক করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এদেরকে আটক করে র‌্যাব-২। 

 

আটকেরা হলেন, বাবুল হোসেন, প্রশান্ত হালদার, জাহিদ আহমেদ, মো. সাদেক, রিয়াজ আহমেদ, মো. সোহাগ, বি আর আহমেদ শরীফ, দেলোয়ার হোসেন, মো. জাহিদ হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. ইসলাম। তাদের অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

র‌্যাব-২ এর সিনিয়র এএসপি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে হাসপাতালের একটি রুম থেকে বিদেশি মদ ও গাঁজা নিয়ে মেতে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের মালিকপক্ষ ও তাদের এজেন্ট দালালচক্রের আটজনকে আটক করা হয়। এরপর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দালাল চক্রের আরো ৪ সদস্যকে আটক করা হয়। 

 

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকেরা জানিয়েছে তারা সুকৌশলে পঙ্গু হাসপাতালে রাতে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের ফুসলিয়ে নিজেদের ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করতেন। এ কাজ করতে তারা পঙ্গু হাসপাতালের বিভিন্ন পয়েন্টে আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে থাকতেন এবং একে অপরকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগীদের হাসপাতালে পাঠাতেন। এ কাজের জন্য তারা মালিকপক্ষের কাছ থেকে কমিশন পেতেন। 

আটককৃত বি আর আহমেদ শরীফ জিজ্ঞাসাবাদে জানান, প্রায় ২ বছর ধরে তিনি ওয়েলকেয়ার হাসপাতালের ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন এবং তিনিই পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ফুসলিয়ে আনা রোগিদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে করে থাকেন। 

 

শরীফ নিজের নামের সঙ্গে ডা. বি আর আহমেদ শরীফ, এমবিবিএস, এফসিপিএস (অর্থোঃ) ব্যবহার করতেন।

তিনি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেন যে, রোগীর চিকিৎসা ও ঔষধ লেখার জন্য তার কোনো যোগ্যতা নেই। এটা রোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অপকৌশল মাত্র। 

তিনি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক টেস্ট, সার্জিকেল সামগ্রী ও ঔষধ তাদের দেয়া প্রেসক্রিপশনে লিখতেন। পরে রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের সেসব সামগ্রী তাদের কাছ থেকে কিনতে বাধ্য করা হতো। যা বিক্রি করে তারা বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ অবৈধভাবে আদায় করতেন।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / MRR

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা