farmersbank_un

দুই শাখায় ১৭১ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মে জড়িয়েছে বেসরকারি খাতে নতুন আসা দ্য ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড। এর মধ্যে ব্যাংকের গুলশান শাখায় ১৩৫ কোটি ও মতিঝিল শাখায় ৩৬ কোটি টাকা রয়েছে।

এছাড়া ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ৫০ লাখ টাকার কোনো হিসাব মিলছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে, ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় ১৩৫ কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম হয়েছে। নিয়ম লংঘন করে এক খাতের ঋণ অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, উৎপাদন খাতে ঋণ নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এখানে তা পরিপালন করা হয়নি। ছোট-বড় সব ঋণ গ্রহণের আগে জামানত রাখার কথা। কিন্তু ফারমার্স ব্যাংকের এসব ঋণের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো জামানত রাখা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সাইফ পাওয়ারটেকের নামে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। সাইফ পাওয়ারটেকের প্রধান নির্বাহী তরফদার রুহুল আমিন।

হিসাবটিতে কোনো লেনদেন না করেও ওই বছরের ২৪ নভেম্বর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড টার্মিনাল কনটেইনার হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত কাজের বিপরীতে ১৫ কোটি টাকার এসওডি (ওয়ার্ক অর্ডার) ঋণ অনুমোদন করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় ১৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা শাখার অনুকূলে এসাইন করা হয়। কিন্তু কাজের অগ্রগতির বিবরণ না নিয়েই অনুমোদিত ঋণের সব টাকা ছাড় করা হয়। এরপর একইভাবে ৪ কোটি টাকার টাইম লোন সুবিধা অনুমোদন দেয় ব্যাংকের নির্বাহী কমিটি।

এভাবে কোনো প্রকার দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই অনুমোদিত ঋণের ১৯ কোটি টাকা তোলা হলেও এসাইনকৃত বিলের বিপরীতে মাত্র ৬৭ লাখ টাকা জমা করা হয়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে এখনও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পুরোমাত্রায় শুরু হয়নি।

কার্যাদেশ পরিচালনা সমাপ্তির নামে যেসব ঋণের টাকা তোলা হয় তার বিপরীতে পর্যাপ্ত বিল আদায় না হওয়ায় এই ঋণ হিসাবটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এই ঋণের অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / সারোয়ার জাহান

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা