rod

বছরের শুরুটা ঘরবাড়ি নির্মাণের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। আর বছর বছর এই সময়েই সবচেয়ে বেড়ে যায় নির্মাণ সামগ্রীর দাম। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। নির্মাণের অন্যতম প্রধান উপকরণ রডের প্রতি টনে এবারও বছরের শুরুতেই ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। রাজধানীর নির্মাণ সামগ্রীর পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। 

জানা গেছে, বর্তমানে ৬০ গ্রেড বা ভালো মানের এম এস রড টনপ্রতি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৯ হাজার থেকে ৬১ হাজার টাকায়। মাসখানেক আগেও এর দাম ছিল ৫৩-৫৪ হাজার টাকায়। আর ৪০ গ্রেডের এম এস রড টনপ্রতি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫১ হাজার টাকায়। যা আগে ছিল টনপ্রতি ৪৮-৪৯ হাজার টাকা। 

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ এর বাজার বিশেস্নষণের তথ্যমতে, ৬০ গ্রেডের প্রতি মে. টনের দাম ১৭.৬৫ শতাংশ বেড়েছে। আর ৪০ গ্রেডের রডের প্রতি টনের দাম ২৩.৬৪ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে এক মাসের ব্যবধানেই ৬০ গ্রেডের রডে দাম বেড়েছে ১১.১১ শতাংশ এবং ৪০ গ্রেডের দাম বেড়েছে ৪.০৮ শতাংশ। 

রাজধানীর নয়াবাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বিএসআরএম, কেএসআরএম, আবুল খায়েরের  ব্র্যান্ডের (৬০-৭৫ গ্রেড়ের) রড প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে ৫৯ থেকে ৬১ হাজার টাকায়। ৪০ গ্রেডের রড় ৫১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৪৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতনী (ম্যানুয়েল) কারখানায় উত্পাদিত রডের দাম এখন ৫২ হাজার টাকা। যা আগে ৪৭ হাজার টাকায় পাওয়া যেত। 

খায়ের অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বতাধিকারী খায়ের উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, রড়ের বাড়তি দামের কারণে ভরা মৌসুমে ব্যবসা মন্দা চলছে। প্রকি বছরই এই সময় রড়ের দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো। আর বাজার স্থিতিশীল না থাকলে ক্রেতারা মৌসুমেও রড কম কেনেন। দাম কমার জন্য অপেক্ষা করেন। 

ইস্পাত শিল্প মালিকরা এ দফায় দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারে রডের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, ডলারের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে যুক্তি দেখাচ্ছেন। যদিও একই অজুহাতে গত অক্টোবরে একদফা রডের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সে সময় তা অযৌক্তিক বলে দাবী করেছিলেন নির্মাণ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা। 

তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বাসি) বলছে, দীর্ঘদিন থেকে রড উত্পাদনকারী কোম্পানিগুলো পারস্পরিক যোগসাজশ তথা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রডের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে চলেছে। বাসি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মনির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এমএস রডের প্রধান উপাদান বিলেট দেশেই উৎপন্ন হয়। খুব কম পরিমাণ বিলেটই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বিশ্ববাজারে বিলেটের দাম মূল্য বৃদ্ধি সমন্বয়ের কারণে রডের দাম সর্বোচ্চ এক-দুই শতাংশ বাড়তে পারে। টনে ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি অযৌক্তিক এবং অনৈতিক।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে তৃতীয় দফায় দেশে বেড়েছে রড়ের দাম। প্রথমে গত জুনে বাজেট ঘোষণার পরপরই রডের দাম এক দফা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কারণ, চলতি অর্থবছর থেকে রডের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত্ম নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাওয়ায় সেটি হয়নি। তবে তখন আর রডের দাম কমেনি। উল্টো গত অক্টোবরে এসে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে আবারো রড়ের দাম বাড়ানো হয়। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রি রোলিং স্টিল মিলস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিল মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ, ডলারের দাম, জ্বালানী তেলের দাম এবং বিশ্ববাজারে কাচামালের দাম বাড়তি থাকার কারণে দেশের বাজারে প্রভাব পড়েছে। তবে এইসব কারণে যতটা প্রভাব পড়ার কথা ততটা পড়েনি। হিসেব করলে প্রতি টনে ১০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন রয়েছে।’

ব্যাংকের সুদের হার নতুন করে বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকার নানামুখী প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও ব্যাংকাররা তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের কি করণীয় রয়েছে?’

এছাড়া দেশের বিভিন্ন ইট ভাটায় প্রতি হাজার ভালো মানের (১ নং) ইটের দাম ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  যা গত ডিসেম্বরেও এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম ছিল। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ইট, বালু, সিমেন্ট পরিবহন খরচ বেড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / টি/কে

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা